চট্টগ্রামের রাউজান পৌরসভার সুলতানপুর ৫ নম্বর ওয়ার্ডে বাইরে থেকে দরজা আটকে এক হিন্দু পরিবারের বসতঘরে আগুন দেওয়ার নতুন ঘটনার পর পুরো উপজেলায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে; গত পাঁচদিনে কেউটিয়া, ঢেউয়াপাড়া ও সুলতানপুর মিলিয়ে অন্তত ছয়টি হিন্দু পরিবারের টিনশেড ঘরে একই কায়দায় অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে । মঙ্গলবার ভোর রাত সোয়া ৩টা থেকে ৪টার মধ্যে কাতার প্রবাসী সুখ শীলের সুলতানপুরের বাড়িতে আগুন লাগানো হয়; সেখানে থাকা তার বোন–বোনজামাই অনিল শীল পরিবারসহ বের হতে গিয়ে দেখেন, ঘরের দরজা বাইরে থেকে আটকানো, পরে তারা ঘরের বেড়া কেটে কোনোভাবে বের হয়ে আসেন, তবে ততক্ষণে দুটি বসতঘর পুড়ে যায় ।
এর আগে একই কায়দায় পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ঢেউয়াপাড়া এলাকায় বিমল তালুকদার ও রুবেল দাশ, আর কেউটিয়া এলাকায় সাধন বড়ুয়া, সোনা পাল ও কামিনী মোহন পালের ঘরে অগ্নিসংযোগ করা হয়; প্রতিটি স্থানে আগুনের পর উঠান থেকে কেরোসিন মাখানো কাপড় ও বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা এবং প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নাম–মোবাইল নম্বর লেখা কাগজ পুলিশ জব্দ করেছে, যা ঘটনাগুলোর পেছনে পরিকল্পিত আতঙ্ক–সৃষ্টির ইঙ্গিত দিচ্ছে । রাউজান থানার ওসি সাজেদুল ইসলাম জানান, সব কেসেই ভুক্তভোগীদের অভিযোগ—বাইরে থেকে দরজা আটকে আগুন দেওয়া হয়েছে; ঘটনাগুলোর তদন্ত ও একাধিক মামলার কাজ চলছে, ইতিমধ্যে একটি ব্যানারসহ কিছু আলামত পুলিশ জব্দ করেছে ।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম রাহাতুল ইসলাম বলেন, টানা অগ্নিসংযোগের পর পুরো এলাকায় উদ্বেগ দেখা দেওয়ায় পাড়া–মহল্লা ভিত্তিক পাহারা–কমিটি গঠন করা হয়েছে; স্থানীয়দের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকেও কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু হয়েছে, রিপোর্ট পেলেই বোঝা যাবে ধারাবাহিক অগ্নিসংযোগের নেপথ্যে কারা রয়েছে ও কী উদ্দেশ্যে এসব করা হচ্ছে।